‘হবে’, ‘পরে হবে’ শুনতে চায় না মানুষ: ডিসি জাহিদ

  • চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম: প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে মানুষ দ্রুত সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, “‘হবে’, ‘পরে হবে’—এ ধরনের আশ্বাস এখন আর মানুষ গ্রহণ করে না। তারা স্পষ্টভাবে জানতে চায়—কেন হবে, কেন হবে না।”

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক স্টাফ রিভিউ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাস পূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়টা খুব দীর্ঘ নয়। তবে এই সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল নির্বাচন আয়োজন। নির্বাচন ঘিরে নানা কার্যক্রমে কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, নতুন বাস্তবতায় সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বক্ষেত্র স্পষ্টভাবে বুঝে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সীমার ভেতর থেকেই দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মানুষের প্রত্যাশা বদলে গেছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। “আমরা প্রমাণ করেছি—স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। আমরা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নিই না, রাষ্ট্রের জন্য কাজও করি। মানুষের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।”

দায়িত্বের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেবায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানে এগোতে হবে।

সরকারি পদ স্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি স্থায়ী নই, আপনারাও নন। কিন্তু এই সময়টুকু আমাদের হাতে। আমরা সমাজকে কী দিলাম, সেটিই শেষ পর্যন্ত মূল্যায়িত হবে।” প্রশিক্ষণ বা যোগ্যতায় সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে আন্তরিকতা থাকলে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তদবির ও ব্যক্তিগত প্রভাবের সংস্কৃতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারীদের জবাবদিহিতা কেবল রাষ্ট্রের কাছেই থাকবে, কোনো ব্যক্তির কাছে নয়।

সময়ানুবর্তিতা ও কাজের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ফাইল অযথা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। নির্বাচনকালীন ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি চেষ্টা করেছেন যেন কোনো ফাইল পরের দিনে না যায়। নাগরিক তাঁর ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বিবেচনা করেন না; তিনি তাঁর প্রাপ্য সেবাই চান।

মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু নিজের সন্তানের প্রতি নয়, অন্যের সন্তানের প্রতিও সমান মমতা থাকতে হবে। তবেই প্রকৃত অর্থে মানবিক প্রশাসন গড়ে উঠবে।

পিএস