ফরিদপুর: পবিত্র রমজানে ইফতারের অন্যতম উপকরণ মুড়ির চাহিদা বেড়েছে ফরিদপুরে। যেমন- ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ কিংবা জিলাপির সঙ্গে মুড়ি অনিবার্য দৃশ্য। অনেকের কাছে ইফতার মানেই এক বাটি মুড়ি।
জেলার বোয়ালমারী, সালথা, মধুখালি, আলফাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ কারখানায় এমনকি বাড়িতে চলে মুড়ি ভাজার কাজ। তবে রমজান এলেই চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। রাসায়নিকমুক্ত, হাতে ভাজা মোটা মুড়ির স্বাদ ও মানের কারণে ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ চুলা জ্বালিয়ে মুড়ি ভাজছেন। কেউ মুড়ি চালুন দিয়ে পরিস্কার করছেন। আবার কোন এলাকায় নারী এবং পুরুষরা মুড়ি বস্তায় ভরে মুখ সেলাই করছেন।
বস্তার মুখ সেলাই এর কাজ শেষ হতেই ভ্যান কিংবা পিকাপ ভ্যানে তুলে দেয়া হচ্ছে মুড়ির বস্তা। এ-সব মুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। রাসায়নিক মুক্ত, স্বাদ বেশি হওয়ায় কদর রয়েছে জেলা জুড়ে।
মুড়ি তৈরির কারিগরি রহিম বিশ্বাস বলেন, আমারদের হাতে তৈরি মুড়ি সার ও রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় চাহিদা প্রচুর। তবে রমজানে এ চাহিদা কয়েকগুণ বাড়ে। এলাকায় লোকজন মেশিনের মুড়ি খেতে চান না। তবে হাতে তৈরি মুড়ি দুই মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
মুড়ি ব্যবসায়ী সাগর বলেন, রমজানে মুড়ির চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। তবে কিছু ক্রেতা হাতে তৈরি ভাজা মুড়ি বেশি কিনে থাকে।
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন দোকানে যে মুড়ি পাওয়া যায় তার বেশিরভাগ মেশিনে ভাজা। এসব মুড়িতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো হয়। হাতে ভাজা মুড়িতে খরচ একটু বেশি, তাই দামও একটু বেশি পড়ে। রোজা এলে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা। মেশিনে মুড়ি ভাজতে সময় কম লাগে কিন্তু তুলনামূলকভাবে লাভ বেশি। অন্যদিকে হাতে মুড়ি ভাজতে সময় বেশি লাগে কিন্তু লাভ সামান্য। ফলে হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা দিনদিন এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
পিএস