ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সেমাই কারখানাগুলোতে। তবে এ সুযোগে কিছু কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও নিয়ম না মেনে উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত আদুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও আগের মতোই উৎপাদন কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে লাচ্ছা ও সাদা সেমাই তৈরি করে দ্রুত প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। সাদা সেমাই উৎপাদনের পর খোলা আকাশের নিচে শুকাতে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ডালডা ব্যবহার করেও সেমাই ভাজা হচ্ছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে আদুরী ফুডকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, জরিমানার পরও উৎপাদন পদ্ধতিতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এতে প্যাকেটজাত সেমাই খেয়ে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে কারখানা সিলগালা করা উচিত। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে জেলার সব কারখানায় নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, কারখানার কর্মীদের মধ্যেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার নেই।
এ বিষয়ে আদুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক ওসমান আলী পলাশ বলেন, সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে। ভালো পরিবেশে উৎপাদনের চেষ্টা চলছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল কবির বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অবস্থা চলতে থাকলে কারখানা সিলগালার সুপারিশ করা হবে। বিষয়টি ফলোআপে রাখা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কারখানায় অভিযান চলমান থাকবে। ভোক্তারা যাতে নিরাপদ খাদ্য পান, সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অন্তত ২০টির বেশি সেমাই কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় দৈনিক গড়ে ১০ মনের বেশি বিভিন্ন ধরনের সেমাই উৎপাদন হয়।
এসএইচ