টিউবওয়েলে উঠছে না পানি, সরাইলে দুর্ভোগে জনজীবন

  • সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

চলতি ফাল্গুন মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। এর ফলে এসব এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিপ টিউবওয়েল (গভীর নলকূপ) ও জল মোটর (সাবমার্সিবল পাম্প) থেকে পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। খাওয়া ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের পানির জন্য দূর-দূরান্তে গিয়ে জমির গভীর নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্পই এখন অনেকের একমাত্র ভরসা।

চানপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, যাদের বাড়িতে জল মোটর রয়েছে তাদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে অনেকেই পানি না পেয়ে পাশের গভীর নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। তার এলাকায় টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় গৃহস্থালির কাজ করতে গৃহবধূদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কালীকচ্ছ গ্রামের মনির মিয়া বলেন, একটি জল মোটর বসাতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তাই সবার পক্ষে জল মোটর বসানো সম্ভব নয়। সরকারিভাবে জল মোটরের ব্যবস্থা করা হলে মানুষ সহজে খাবার পানি পেতে পারবে।

সূর্যকান্দি গ্রামের গৃহবধূ নুরুন্নাহার বেগম বলেন, টিউবওয়েল ও মোটরে পানি উঠছে না। দূর-দূরান্তের অগভীর টিউবওয়েল থেকে পানি টেনে আনতে হচ্ছে। সেই পানি দিয়েই রান্না ও খাওয়ার চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। তবে গোসলসহ অন্যান্য কাজে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দুবাজাইল গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকা হলেও প্রতিবছর এ সময় টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। ফলে খাবার পানি সংগ্রহ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

সরাইল উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী মো. রুপক মিয়া বলেন, ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যায়। ফলে এ সময় গভীর ও অগভীর নলকূপ ছাড়া সাধারণ হাতচালিত টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। তবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে বন্ধ থাকা টিউবওয়েলগুলো আবার সচল হয়ে যাবে।

এসএইচ