নীলফামারী: নীলফামারীতে মৌসুমে আলুর বাজারে ধস নেমেছে। প্রতি কেজি আলু ৫ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে বিঘা প্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে আলু চাষীদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এ বছর নীলফামারী জেলায় ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষ হয়েছে ২২ হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। বিঘা প্রতি এবার ৩৫ থেকে ৪০ বস্তা পর্যন্ত আলুর ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে আলুর দাম না থাকায় আলু চাষীদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
জেলা সদরের লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি গ্রামের আলু চাষি রতন জানান, এবার এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টাকা। আলু হয়েছে ৪০ বস্তা। বাজারে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু বিক্রি করেছি ৩৬০ টাকায়। এতে এক বিঘা জমিতে আমার লোকসান গুনতে হয়েছে ১৭ হাজার ৬ শত টাকা।
টুপামারি ইউনিয়নের বাজার মৌজা গ্রামের টম মামুদ বলেন, এবার আমি ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। সার,সেচ,কীটনাশক ও শ্রমিকসহ প্রতি কেজিতে আমার খরচ পড়েছে প্রায় ১২ টাকা। হিমাগারে রাখার সামথ্য না থাকায় খেতে প্রতি কেজি বিক্রি করেছি ৭ টাকায়। কেজিতে ৫ টাকা আমাকে লোকসান গুনতে হয়েছে। এ রকম প্রত্যেক কৃষকের বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবার আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নীলফামারীর আলু ব্যবসায়ী করিম উদ্দীন জানান, ভালো আলু ৭ টাকা কেজি দরে কিনছি। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় অনেক কৃষক এখনও জমিতে আলু ফেলে রেখেছেন বলে তিনি জানান।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর মৌসুমী আলুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে এবার আলুতে আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা।
পিএস