বগুড়া–৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রশাসনে রদবদল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই বর্তমান সরকার বগুড়ার প্রশাসনে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে আসেন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাদের বদলি বা নতুন পদায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৪ মার্চ ২০২৫ তারিখের এক পত্রের মাধ্যমে বগুড়ার পুলিশ সুপারকে অন্যত্র বদলি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলি করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনে কোনো রদবদলের একমাত্র এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের হলেও তাদের চাহিদা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বদলি করছে। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে সরকার সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আসন্ন উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের অধীনে হচ্ছে, নাকি সরকারের ইচ্ছামতো পরিচালিত হচ্ছে। এসব বদলির কারণে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সমপদমর্যাদার কেউ কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। কিন্তু গত ৮ মার্চ স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার নাজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এভাবে আইন লঙ্ঘন করা হলে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে যে বগুড়া–৬ আসনের উপনির্বাচন আবারও দ্বিতীয় মাগুরার মতো হবে কি না।
আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনতিবিলম্বে সব ধরনের বদলি বাতিল করে প্রশাসনের ভীতি দূর করা, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত ভোট কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নতুন নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, প্রশাসনে সরকারের প্রভাব বিস্তার বন্ধ করা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আ. স. ম. আব্দুল মালেক, জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, বগুড়া–৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, জামায়াত নেতা হেদায়তুল ইসলাম, আব্দুস সালাম তুহিন, শাহীন মিয়া ও ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
এসএইচ