নাটোরে ১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত, জেলাজুড়ে উদ্বেগ

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

নাটোরে একাধিক শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় জেলায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৩ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বর্তমানে ছয়জন শিশু নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মার্চ মাসের প্রথম দিক থেকেই হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৮ জন শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর ১৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত করা হয়।
আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬ জন শিশু হলো—মারিয়া খাতুন, ফাহমিদা খাতুন, মিতা, আরহাম, হুমায়ুন এবং মোহাম্মদ আলী।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে।

সালমা খাতুন নামে এক মা বলেন, গত দুই দিন ধরে আমার শিশুর জ্বর ও সর্দি আছে। ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর কমছে না, শিশুটি কিছুই খেতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এনেছি।

অন্যদিকে সুফিয়া বেগম নামে আরেক রোগীর স্বজন জানান, গত রাত থেকে আমার তিন বছর বয়সী নাতনির জ্বর ও সর্দি শুরু হয়েছে। নাপা সিরাপ খাওয়ানোর পরও উপশম না হওয়ায় সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চারদিকে হামের কথা শুনে আমরা খুব চিন্তিত।

নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে হাম ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, নাটোরে ৩৮ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এলেও পরীক্ষায় ১৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬ জন শিশু শঙ্কামুক্ত। আমরা আশা করছি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।

তিনি আরও জানান, রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশুদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নতুন করে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

এম