তেল সংকটে সেচ ব্যাহত, ঝুঁকিতে বোরো ফসল

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলের কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, যা কৃষকদের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর উদ্বেগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক সেচযন্ত্রই বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এতে ধানের চারা শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

কৃষকরা জানান, অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই খোলা বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনছেন। ফলে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে তাদের ওপর তৈরি হয়েছে বাড়তি আর্থিক চাপ।

চরাঞ্চলের কৃষক আল আমিন বলেন, সেচ বন্ধ হয়ে গেলে সব পরিশ্রমই বৃথা যাবে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, দিনরাত কষ্ট করে চাষ করলেও তেলের অভাবে এখন সবকিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

ধানচাষি নাজমুল হাসান বলেন, তেল না থাকায় সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। এখন দ্রুত সেচ দিতে না পারলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বাইরে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, এতে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের উদ্যোগ থাকলেও প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, এই সুবিধা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে তারা আরও বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি সরবরাহে পড়ছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এই সংকট সরাসরি কৃষিখাতে প্রভাব ফেলছে।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, তেল সংকটের কারণে চরাঞ্চলের কৃষকরা বড় বিপদের মধ্যে আছেন। সময়মতো ডিজেল না পাওয়ায় অনেক জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইয়াছিন আলী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে চলমান তেল সংকট বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বোরো মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই সময়ে পানি সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিকল্প উপায়ে সেচ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে পরিকল্পিতভাবে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। সদর উপজেলার নারায়ণপুর চরেই চাষ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে।

এসএইচ