চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্রের দাপটে কৃষি এলাকায় বাড়ছে আতঙ্ক। জেলার সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ থেকে গত তিন মাসে শতাধিক ট্রান্সফরমার ও সেচ পাম্প চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পল্লী বিদ্যুৎ ও থানায় অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে দাবি তাদের। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধার-দেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পুনরায় সেচ ব্যবস্থা সচল করছেন।
শাজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক ডালিম মিয়া বলেন, প্রায় প্রতি রাতেই আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন যে পাম্প বা ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যায় বলা যায় না। সেচ বন্ধ থাকায় ধান শুকিয়ে যাচ্ছে, পুরো ফসলই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক বাবুল বলেন, রাত জেগে পাহারা দিয়েও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব চুরি করছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এখন জরুরি।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চুরি প্রতিরোধে কাজ চলছে। কোনো কর্মচারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির জেনারেল ম্যানেজার মো. ফজলুর রহমান বলেন, গ্রাহকদের সচেতন থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত জানাতে হবে। একই সঙ্গে চুরি ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ বলছে, বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে এবং টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কৃষকদের আশঙ্কা, চুরি ঠেকানো না গেলে চলতি মৌসুমে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির বোরো ধান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এসএইচ