ফুয়েল কার্ডের ছবির সাথে অমিল, যুবককে ইউএনও’র চপেটাঘাত

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

​লালমনিরহাট: ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় এক মোটরসাইকেল গ্যারেজ কর্মচারীকে চপেটাঘাত (থাপ্পড়) করার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের ‘লুবানা ফিলিং স্টেশনে’ এই ঘটনা ঘটে।

​ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলক চন্দ্র অসুস্থ থাকায় তার মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য গ্যারেজ মালিক প্রদীপের সহায়তা চান। প্রদীপ তার কর্মচারী নদীকে (১৮) ফুয়েল কার্ডসহ পাম্পে পাঠান।

নদী যখন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন সেখানে তদারকিতে থাকা ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান তার কার্ডটি যাচাই করেন। কার্ডের ছবির সঙ্গে নদীর চেহারার মিল না থাকায় কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ইউএনও তাকে চপেটাঘাত করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এই ঘটনায় উপস্থিত স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা ইউএনও-কে ঘিরে ধরেন। পরবর্তীতে অসুস্থ কলেজ শিক্ষকের মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ডের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী যুবক নদী বলেন, ‘আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি, বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান গায়ে হাত তোলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

​তবে চাবি নেওয়া এবং বাকবিতণ্ডার বিষয়টি স্বীকার করলেও থাপ্পড় মারার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

পিএস