ফেনী জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় একযুগ আগে ২৫০শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিলো। নামে ২৫০শয্যা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী না থাকায় যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ফেনীসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দারা।
শুধু তাই নয়, আড়াইশ শয্যা দূরের কথা একশ শয্যার জনবলও নেই। ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জেলার অন্যতম প্রধান এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া হাসপাতাল পরিস্কার করার জন্য ক্রয় করা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী উদাও হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ৭৪জন ডাক্তারের মধ্যে ৩২টি পদ শূন্য রয়েছে। ৯জন সিনিয়র কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫জন।
এরমধ্যে মেডিসিন, শিশু, ডেন্টাল, চক্ষু ও স্কীন বিশেষজ্ঞ পদ শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ১২জনের পদ থাকলেও এখানেও ৫জনের পদ শূন্য। এরমধ্যে চক্ষু, সার্জারী, ফিজিক্যাল মেডিসিন, প্যাথলজি, রেডিওলজি রয়েছে। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের ২টি ও মেডিকেল অফিসারের ১টি পদ শূন্য রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, দ্বিতীয় শ্রেনীর ২১৮জন নার্সের মধ্যে ১৪৭জন কর্মরত রয়েছেন। এই পদের ৭১টিই শূন্য। তৃতীয় শ্রেনীর ৪৩টি পদের মধ্যে ১৭জন, চতুর্থ শ্রেনীর ৭৩টি পদের মধ্যে ৫৮জনসহ ১৭৮জনের পদ শূন্য রয়েছে। স্টোর কিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও ১৪ বছর যাবত শূন্য। এখানে বিভিন্ন রকম অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। স্টোর কিপারের কাজ করছে ল্যাব টেকনোলজি ছালেহ উদ্দিন। ল্যাব টেকনোলজির কাজ হচ্ছে ২৪ ঘন্টা ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্ব। দুইটি গুরুত্বপূর্ণ
কাজে এক ব্যক্তি থাকায় প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এছাড়াও এখানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছ। বিষয়টি বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও আলোর মুখ দেখেনি।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই হাসপাতালে ফেনী জেলা ছাড়াও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর সেনবাগ, চট্টগ্রামের মীরসরাই, রামগড়, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন।
হাসপাতালের বহি:র্বিভাগ থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন। অব্যাহত রোগীর চাপ সামলাতে ২০০৫ সালে ফেনী ১০০শয্যার সদর হাসপাতালটিকে ২৫০শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২০০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।
১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে বর্হি:বিভাগ, এক্স-রে ও সিটিস্ক্যান বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, ১০ শয্যার আইসিইউ, ১২শয্যার সিসিইউ, ১৪শয্যার ডায়ালাইসিস, জেনারেল ওয়ার্ড, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড, কেবিন ও ভিআইপি কেবিন রয়েছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা: রোকন উদ দৌলা জানান, রোগীর খুবই চাপ। ২৫০শয্যার এ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ভর্তি রোগী ও বহি:র্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এই জনবল দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা: রুবাইয়াত বিন করিম জানান, হাসপাতাল ২৫০শয্যার হলেও অথচ জনবল কাঠামো ১০০শয্যারও কম। জনবল সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। চিকিৎসকসহ জনবল স্বল্পতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এম