বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বিবাহ বিচ্ছেদের পর দুধ দিয়ে গোসল করে আলোচনায় এসেছেন পরিমল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ দাম্পত্য কলহের অবসানের পর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আইনগত বিচ্ছেদের কাগজ হাতে পেয়ে পাঁচ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার উত্তর রহমতপুর এলাকার নিজ বাড়িতে এই ব্যতিক্রমী গোসল করেন পরিমল চন্দ্র দাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিমল চন্দ্র দাস ও দীপা রানী দাসের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ইষানী (৭) নামের এক মেয়ে ও প্রনব দাস (১৫) নামের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরিমল চন্দ্র দাস জানান, ২০০৯ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা এলাকার শুশান্ত দাসের মেয়ে দীপা রানী দাসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, জীবিকার প্রয়োজনে একসময় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও হুমকির মুখে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন। পরে সেখান থেকে চলে এসে প্রায় ছয় বছর আলাদা বসবাস করেন।
পরিমলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের আগেই তাকে না জানিয়ে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন। তবে এ বিষয়ে অন্য পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও হলফনামা অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ওই দম্পতির আইনগত বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল। কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক টেকেনি।
বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ হাতে পাওয়ার পর পরিমল চন্দ্র দাস পাঁচ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার বলেন, পরিমল চন্দ্র দাস ও দীপা রানী দাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে পরিমল ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি জানতে পেরেছি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ বলছেন, আবার কেউ এটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
এম