রাজবাড়ী: আসন্ন ঈদুল আজহার বা কুরবানির ঈদ এর সম্ভাব্য তারিখ ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে। এসময় রাজবাড়ী জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাদের কুরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এবারের কোরবানির বাজারে আলোড়ন তুলতে আসছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার প্রায় ৩৭ মন ওজনের রাজাবাবু’। যার দাম চাওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
ধবধবে সাদা ও কালো রঙের গরুটির বয়স তিন বছর। বিশাল আকারের ‘রাজাবাবু’ কে দেখতে প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে খামারে আসছে দর্শনার্থীরা। জানা গেছে, ফ্রিজিয়ান জাতের এ গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন পালন করছেন মোহাম্মদ আলী শেখ ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন ‘রাজাবাবু’।
[270537]
গম, ছোলা, চালের গুড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে গরুটি। প্রায় দশ বছর আগে শুরু করেছিলেন গরু পালন বর্তমানে তার খামারে গাভি সহ ৫ টি গরু আছে। কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের সহযোগীতায় এখন তৈরি করেছে সফল খামারে।
সরেজমিনে মোহাম্মদ আলীর খামারে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৩৭ মন ওজনের গরুটির যত্ন নিচ্ছেন তার ছেলে সাহেব আলি শেখ এসময় তিনি বলেন প্রায় ১০ বছর যাবত আমাদের গরুর খামার আছে এবং ৩ বছর এই গরুটা আমার বাবা মোহাম্মদ আলি সখ করে পালতেছে আমরা তাকে লালনপালনে সহযোগিতা করি। এই গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়,আমরা কোন প্রকার ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করিনি। গরুর খাওয়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, গরুটির ওজন ৩৭ মন দাম চাচ্ছি দশ লক্ষ টাকা। তবে ইন্ডিয়া থেকে যদি গরু না আসে তাহলে লাভবান হবে খামারিরা। গোখাদ্য দাম অনেক বৃদ্ধি তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন গরু আমদানি করা না হয়।
সরকারি তথ্য মতে জেলায় ৮৮৭২ জন খামারি আছে এবং কুরবানির উপলক্ষে এসব খামারে ৭০ হাজারের অধিক পশু প্রস্তত আছে জেলায় মোট চাহিদা ৫৫ হাজার জেলার চাহিদা পুরন করে বাকি পশু ঢাকা সহ অন্যান জেলায় পাঠাবেন বলে জানায় খামারিরা।
রাজবাড়ী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, এবছর ৭০ হাজারের অধিক পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে। আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সার্বক্ষনিক খামার মনিটরিং করেছে। যদি কেউ হরমোন খাইয়ে পশু হৃষ্টপুষ্ট করে তার কিছু লক্ষন বাইরে থেকে বোজা যায় যেমন গবাদি পশুর গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সুস্থ পশু হলে যে জায়গা টা গর্ত হবে সেটা সমান হয়ে যাবে, যখোন পশুতে কোন ক্যামিকেল বা হরমোন ব্যবহার করা হয় তাহলে ঐই গর্ত জায়গাটা সমান হতে কিছুটা সময় লাগবে, এছাড়া, পশুর হাটাচলায় তারমন্থর গতি থাকবে শরিরে পানি জামার মত ভাব দেখা যাবে,এগুল দেখে আমরা বাহ্যিক ভাব বলতে পারি তারা এই ওষুধ ব্যবহার করেছে। আশা করছি তারা ওই পদ্ধতি ব্যবহার করবে না আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষন ও তাদের৷ পরামর্শ প্রদান করে থাকি।
এসআই