পথে পথে চাঁদাবাজিতে বিপাকে পশুবাহী ট্রাক

  • রাজশাহী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট রাজশাহীর সিটি হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন হাজার হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। তবে পশু পরিবহন ঘিরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজির অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রাকচালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

চালকদের দাবি, রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। আর চট্টগ্রাম পর্যন্ত গেলে সেই খরচ আরও বেড়ে দাঁড়াচ্ছে সাত থেকে দশ হাজার টাকায়। পুলিশের চেকিং, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী চক্র এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের নামে এসব টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাগজপত্র নিয়ে হয়রানি, ভয়ভীতি এমনকি লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে বলেও জানান চালকেরা।

রোববার সকালে রাজশাহীর সিটি হাটে বিভিন্ন জেলার ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তবে পরবর্তী হয়রানির আশঙ্কায় অধিকাংশ চালক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

চালকদের ভাষ্য, সিটি হাট থেকে বের হওয়ার পরই প্রথম বাধার মুখে পড়তে হয় নগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এলাকায়। সেখানে পুলিশ সদস্যদের নামে ট্রাকপ্রতি ৫০০ টাকা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী কিছু ব্যক্তির জন্য আরও ৩০০ টাকা দিতে হয়।

এরপর পুঠিয়া এলাকায় পবা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন অংশে আবারও চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ। সেখানে হাইওয়ে পুলিশের নামে ৫০০ টাকা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের জন্য আরও ২০০ টাকা আদায় করা হয়। একইভাবে নাটোরের বনপাড়া, সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও সখীপুর, গোড়াই এবং গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিভিন্ন অজুহাতে ট্রাক থামিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চালকেরা।

রাজধানীতে প্রবেশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ তাদের। গাবতলি, শনির আখড়া, মদনপুর, গাউসিয়া ও আড়াইহাজার এলাকায় ট্রাক থামিয়ে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামমুখী ট্রাকগুলোকে কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টেও একই ধরনের চাঁদার মুখে পড়তে হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, অনেক সময় গাড়ির কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখে সামান্য ত্রুটি পেলেই মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার কোথাও কোথাও মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেওয়া কিছু ব্যক্তি সরাসরি ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে প্রতিদিন রাতেই রাজশাহীর সিটি হাট থেকে প্রায় সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ পশুবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এসব ট্রাকের বড় অংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী।

ট্রাক মালিকদের ভাষ্য, বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি পশুবাহী ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু পথে পথে চাঁদা দিতে গিয়ে আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি, শ্রমিক ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে এই অতিরিক্ত চাপ যুক্ত হওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, “চালকেরা মহাসড়কে চাঁদাবাজির যে চিত্র তুলে ধরছেন, সেটিই বাস্তবতা। সিটি হাটে সারাদেশ থেকে ট্রাক আসছে ও যাচ্ছে। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।”

এ বিষয়ে বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিএস