পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ, তার কথিত প্রেমিক ও এক আত্মীয়সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে নিহত নমিতা রানী পালের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় নমিতা রানী পালের পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল (৩২), কথিত প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত (৫৫), তাপস দেবনাথ (৪৪) এবং আরও দুইজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নমিতা রানী পাল (৬০) ওই এলাকার বাসিন্দা রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শ্যামল চন্দ্র পালের স্ত্রী বন্যা রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কামাল পঞ্চায়েত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে শাশুড়ি নমিতা রানী পাল এর প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ওই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে নমিতা রানী পালকে হত্যা করা হয়েছে। তারা জানান, মরদেহে নখের আঁচড়ের চিহ্ন, গলায় আঘাতের দাগ এবং হাতের শাখা ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে। এছাড়া ঘরের দেয়ালে রক্তের দাগও পাওয়া যায়। এসব আলামতের ভিত্তিতে তাদের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ে রঞ্জিতা পাল অভিযোগ করে বলেন, পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় আমার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বলেন, “ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে রাত ফিরে এসে ঘরের সিটকানি খোলা দেখতে পাই। ঘরে ঢুকে স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। আমার চিৎকার শুনে বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে কামাল পঞ্চায়েত পালিয়ে যায়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বন্যা রানী পালের ফুফা তাপস দেবনাথ ঘটনার সময় ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের সন্দেহ, তিনিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বন্যা রানী পাল ও তাপস দেবনাথকে আটক করে। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহব্বত খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএস