একই গ্রাম থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

  • পিরোজপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একই গ্রামে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও কৃষকসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকার আরও এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন। পরপর এসব ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

রোববার (৩১ মে) সকালে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের একই গ্রামের ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ।

নিহতরা হলেন- ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) এবং একই এলাকার মো. কালু মিয়ার ছেলে সাগর (৩০)। এদিকে একই এলাকার মৃত আব্দুস সত্তার প্যাদার ছেলে ইউসুফ প্যাদা (৪২) গত রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে আব্দুর রশিদকে মোবাইল ফোনে ডেকে বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে যেতে নিষেধ করলেও তিনি বের হয়ে যান। পরে রোববার ভোরে নেহালিয়া মাদরাসার পাশের একটি মক্তবখানা থেকে ভোর ৫ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে কাদামাটি লেগে ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কারা যেন ফোন দিয়ে তাকে ডেকে নেয়। আমি যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে কথা শোনেনি। সকালে না পেয়ে আসেপাশে খোজাখুজির এক পর্যায়ে তাকে মৃত্যু অবস্থায় পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে, একই এলাকার রেন্ট-এ-কার চালক সাগরকেও হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দিনগত রাত ১ টার দিকে তার বাড়ির পিছন থেকে পরিবারের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে। তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন।

দুইজনই পরিবার-পরিজনের একমাত্র ভরসা ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। 

নিহত সাগরের ভাই রাজিব বলেন, রাত ১২টার দিকে আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত ১টার দিকে একজন এসে ডাক দেয়। পরে বাড়ির পেছনে গিয়ে দেখি আমার বড় ভাই মাটিতে পড়ে আছে। তখন তিনজন লোককে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছি। 

এদিকে একই এলাকার সুপারি ব্যবসায়ী ইউসুফ প্যাদা শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার জানায়, রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

হত্যার কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, ম্যাগনেটিক পিলার সংগ্রহ করতে গিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একই সময়ে এই জোড়া খুন হয়ে থাকতে পারে। 

মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহগুলোর গায়ে কাদামাটি ছিল। হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিআইডির টিম এলে আলামত সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া নিখোঁজ ইউসুফ প্যাদার সন্ধানে পুলিশের একটি দল কাজ করছে। 

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত (২৪ মে) একই উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন ও ফুলঝুরি গ্রামে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে কুপিয়ে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহত হন আব্দুল কাইয়ুম (৩০) ও মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঠবাড়িয়াজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারকরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

পিএস