লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় এ অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে পুশইনের এ চেষ্টা করে বিএসএফ।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, পাটগ্রাম সীমান্ত (১০ জন), শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল কামাত পানিসালা (পয়ষট্টি বাড়ী) সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর ১/২ এস-এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা এ চেষ্টা চালায়। এছাড়া হাতীবান্ধা সীমান্ত ফকিরপাড়া সীমান্তে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১১ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
আদিতমারী সীমান্ত (১২ জন) দীঘলটারি সীমান্তে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা হয়। এর মধ্যে ৯২৫ মেইন পিলারের কাছে ৫ জন এবং ৯২৫/৭ সাব পিলারের কাছে ৭ জনকে দেখা যায়।
এদিকে পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তীব্র বাধা দিলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পুশইনের শিকার হওয়া ১০ জন হলেন, মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগার আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বিবি (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬) এবং একটি শিশু। তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এ পুশইনের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে আমাদের টহল দল উপস্থিত ছিল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এটি প্রতিহত করে। ওই নাগরিকদের বর্তমানে ইন্টারভিউতে রাখা হয়েছে এবং তারা জিরোলাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।
পিএস