পাবনা: প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার সন্দেহে পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধ কারবারীদের মারধরে আহত হাশেম প্রামানিক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।
মৃত হাশেম প্রামানিক উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলী প্রামানিকের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামী শাহীন নামের এক যুবককে আটক করে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নটাবাড়িয়া গ্রামে লোকচক্ষুর আড়ালে ইউনিয়ন কৃষকদলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন পুলিশকে ম্যানেজ করে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে বিক্রি করতেন। বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী তার কারখানায় অভিযান চালান। এ সময় বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, ভেজাল দুধ ও দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় আব্দুল মোমিনকে। এরপর দল থেকে সাময়িক বহিস্কার হন আব্দুল মোমিন।
কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আব্দুল মোমিন আবারো ভেজাল দুধের কারবার শুরু করলে দ্বিতীয় দফায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও ভেজাল দুধ জব্দ করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী। এ ঘটনায় থানায় আব্দুল মোমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়। এরপর পুলিশ আব্দুল মোমিনের বাবাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার সন্দেহে হাশেম আলীসহ কয়েকজনকে গত ২৯ মে আব্দুল মোমিন ও তার লোকজন লাঠিশোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহতাবস্থায় হাশেম প্রামানিককে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মারা যান হাশেম প্রামানিক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল মোমিন ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় মৃত হাশেম প্রামানিকের ভাগ্নে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামী শাহীনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান ওসি।
পিএস