বরিশালে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক অটোরিকশা চালকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কালিজিরা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি শনাক্ত করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে নগরীর তেমাথা সংলগ্ন কালিজিরা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নাজমুল মোল্লা (২২) বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণফুলিয়া-জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে ১৪ জুন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কালিজিরা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে নাজমুলের মরদেহ শনাক্ত করেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, মরদেহটি একটি বস্তার ভেতরে ছিল এবং বাইরে থেকে কাঁথা দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই নাজমুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসএইচ