কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে এবং তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সামান্য কমেছে। রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদীর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি সকাল ৬টায় ছিল ২৪ দশমিক ২ মিটার। যা সকাল ৯টায় বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৫ মিটারে। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
[272168]
অন্যদিকে, তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। সকাল ৬টায় পানি ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে।
চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সকাল ৬টায় ২১ দশমিক ৪০ মিটার থেকে সকাল ৯টায় বেড়ে ২১ দশমিক ৪১ মিটারে পৌঁছেছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ দশমিক ২৫ মিটার। তবে এ এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।
অন্যদিকে, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সামান্য কমেছে। সকাল ৬টায় নদীর পানি ছিল ২৯ দশমিক ৫ মিটার। যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৩ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। সেখানে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিস্তা চরের বাদাম চাষি আব্দুর রহমান বলেন, গতকালও নদীতে পানি ছিল না। আজ সকাল থেকে হু হু করে পানি বাড়ছে।হঠাৎ পানি বাড়ায় আমার বাদাম খেতে বাদাম তুলতে এসেছি,তবে সকল বাদাম তুলতে পারিনি। তিস্তা নদীর এখন যে অবস্থা, হঠাৎ করেই পানি বাড়ে। বন্যার আগাম সতর্কবার্তা আমরা সময় মতো পাইনা। সতর্কবার্তা না পাওয়ার কারণে আমরা বিভিন্ন সময়ে বিপদে পড়ি।
কৃষক মোজাম্মেল জানান, আমি দুই একর জমিতে মরিচ করেছি। গতকালের আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার সেই মরিচের ক্ষেত থেকে মরিচ তুলেছি।এই ক্ষেত্র থেকে আরোও দুই-একবার মরিচ তোলা সম্ভব হতো। তবে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে খেত থেকে মরিচ গাছগুলো বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। কিছু গরুর খাবার হবে আবার কিছু শুকনো ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে বন্যার আগাম সতর্কবার্তা বেশিরভাগ সময় আমরা পাইনা। ডালিয়া পয়েন্ট থেকে গতকাল রাতে বন্যার সতর্কতা দেয়া হয়েছিল,আমরা অনেকেই সেই খবর পাইনি।
রাজারহাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে বাদাম খেত অনেকটাই উঠে গেছে।
তবে ধানের কিছু বীজতলা আছে, সেটি যদি দুই-তিন দিন পানি নিচের থাকে তাহলে কিছু ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এসআই