চুয়াডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কাগজে-কলমে চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে নেই

  • চুয়াডাঙ্গা প্র‌তি‌নি‌ধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা: কাগজে-কলমে আছে চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে নেই। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা তুলছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ও জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন দুইজন ডাক্তার। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন অবস্থা।

তীব্র জনবল সংকট, শয্যার অভাব আর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বিকল থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। জীবননগর উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার হাজার হাজার রোগী প্রতিদিন এখানে এসে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা  গেছে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের মঞ্জুরীকৃত পদ ৩১টি। কিন্তু এর মধ্যে বর্তমানে ১৩টি পদই শূন্য রয়েছে। যা কর্মরত পদের প্রায় অর্ধেক। চিকিৎসকদের যে কয়টি পদ আছে, তার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ‘জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি’ এবং ‘জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন’ প্রেষণে (ডেপুটেশনে) অন্য জায়গায় কর্মরত আছেন। ফলে প্রসূতি ও মেডিসিন বিভাগের রোগীরা এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন।

​হাসপাতালের এই দূরাবস্থা কেবল চিকিৎসকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা ও রোগীদের দেখভালের জন্য চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে ২১টি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে এর মধ্যে ৮ জন কর্মচারীই প্রেষণে অন্য হাসপাতালে ডিউটি করছেন। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, এখানে এলেই বলা হয় ডাক্তার নেই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।  তীব্র শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর ওপর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।

​হাসপাতালের সামগ্রিক বেহাল দশা এবং রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) ডা. ফাহমিদা সুলতানা রুনা বলেন, ‘"আমি সম্প্রতি এই হাসপাতালে যোগদান করেছি। এসে এই সমস্যাগুলো দেখেছি। শূন্যপদ পূরণ ও বিকল যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাছে লেখালেখি করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

​স্থানীয় ভুক্তভোগী আল আমীন, নুর আলম, সুমন সহ একাধিক  সাধারণ মানুষের দাবি, চুয়াডাঙ্গার সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার অবহেলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত যেন শূন্যপদে চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বিকল এক্স-রে মেশিনটি সচল করে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়।

পিএস