নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে অকেজো সিসি ক্যামেরা

  • রিপন গোয়ালা অভি, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

মহাসড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অপরাধ প্রবণতা কমানো এবং অপরাধীদের সনাক্তে ২০১৬ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে স্থাপন করা হয় ২২০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। ময়মনসিংহে প্রবেশ পথ ভালুকা, ত্রিশাল ও সদরে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার সড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মিডিয়া সেন্টার থেকে মনিটরিং করা হতো মহাসড়কের চিত্র। এর সুফল পাওয়ার ফলে উদ্যােগ নেওয়া হয় শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের।

বাইপাস মোড়, মাসকান্দা, চরপাড়া, ব্রীজের মোড়,তাজমহল, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজারের মোড়, টাউন হল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। নিয়মিত তদারকি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিকল হয়ে যাচ্ছে ময়মনসিংহ শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অনেক ক্যামেরার নেই অস্তিত্ব। আর এই সুযোগে শহরে বেড়েছে অপরাধ প্রবনতা। ঘটছে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা ঘটনা। 

গত ১৬ জুন ভোরে শহরের মিন্টু কলেজ রেলক্রসিংসংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন এক যুবক। ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, ঘড়ি নিয়ে যায় । এই ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ১৭ জুন মাসকান্দা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। ছিনতাইকারীরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে সাথে থাকা মূল্যবান জিনিষ নিয়ে চলে যায়।

১৮ জুন সকাল ১০টায় শহরের গাঙ্গিনারপাড়ে  অলকা নদী বাংলা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার মোবাইল মার্কেটে চুরি হয়। একটি দোকানের তালা ভেঙে প্রায় এক কোটি টাকার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে চেষ্টা করছে ঘটনার পর থেকে। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল করে তুলেছে শহরের অচল সিসি ক্যামেরা।

কাঁচিঝুলি এলাকার ব্যবসায়ী সুজিত দাস জানান, রাতে এই এলাকা একদম নীরব। থাকে। আমরা দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি না। কখন না জানি দোকানপাটে চুরি, ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কারন রাতে এখানে কোন পাহাড়াদার থাকে না। কোন সিসি ক্যামেরাও নেই। তাই সবসময় আতঙ্কে থাকি।

শুধু রাতের বেলাতে নয়, দিনের আলোতেও নিরাপদ নয় ময়মনসিংহ শহর। প্রকাশ্যে হচ্ছে চুরি, ছিনতাই, খুন। 

গাঙ্গিনারপাড় এলাকার বাসিন্দা হান্নান সরকার জানান, বাসাবাড়িতে দিনে দুপুরে চুরির ঘটনা ঘটছে। সিসি ক্যামেরা গুলো অচল থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। অপরাধীদের অবস্থান চিহৃিত করার সবচেয়ে সহজ ব্যবস্থা হলো সিসি ক্যামেরা। এই ক্যামেরা গুলো যদি সচল থাকত তাহলে প্রশাসন মনিটরিং করে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করে আটক করতে পারত।

আনন্দ মোহন কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী তুলসি চৌধুরী পুস্প জানান, শহরে এখন চলাচল করতে নিজেরা নিরাপত্তা বোধ করি না। অভিভাবক দুশ্চিন্তায় থাকেন যতক্ষন না পর্যন্ত বাসায় যাই।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিলো। দেখভালের অভাবে বেশির ভাগ ক্যামেরার অস্তিত্ব এখন পাওয়া যায় না। আর যেগুলো আছে তার বেশির ভাগই অচল। কর্তৃপক্ষ যদি এগুলো নিয়মিত তদারকি করত তাহলে এগুলো এখনও টিকে থাকতে পারত। এই ক্যামেরাগুলো পুলিশের কাজে সবচেয়ে বেশি সহায়ক। অপরাধীদের চিহৃিত করতে সিসি ক্যামেরার বিকল্প নেই বর্তমান সময়ে। তাই জনজীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব সিসি ক্যামেরা পুনরায় সচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা গুলো প্রাইভেট ফান্ড থেকে লাগানো হয়েছিলো। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নেটওয়ার্ক সমস্যা বা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসব ক্যামেরা কাজ করছে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে রয়েছে ৮৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি সচল, বাকি ৫৬টি ক্যামেরা পুরোপুরি অচল পড়ে আছে। পুলিশ নিজস্ব ফান্ড থেকে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছে। কিন্তু নতুন করে সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ নাই। যদি সরকার থেকে কোন ফান্ড দেওয়া হয় তাহলে অচল সিসি ক্যামেরা গুলো সচল করা হবে।

এম