পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে দুটি মাদ্রাসায়। উপজেলার আলগী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও মধ্য বড় শৌলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের ১০ পরীক্ষার্থীর ৯ জনেরই পরীক্ষার আগে বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার ভয়ে ১০ পরীক্ষার্থীর ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার সুপার।
আলগী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১০ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র একজন।
প্রতিষ্ঠানটির সুপার হারুন অর রশীদ জানান, পরীক্ষার আগেই ৯ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। একমাত্র পরীক্ষার্থীও ইতিহাস পরীক্ষার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত অকৃতকার্য হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্য বড় শৌলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে চারজন। বাকি ছয়জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। অংশ নেওয়া চারজনের কেউই পাস করতে পারেনি।
মাদ্রাসাটির সুপার মাওলানা নাসরুল্লাহ বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর খবর শুনে ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ১০ বছর ধরে বাংলা এবং তিন বছর ধরে ইংরেজি শিক্ষকের পদ শূন্য। ২১টি শিক্ষক-কর্মচারীর পদের মধ্যে ১২টিই বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকির অভাব, শিক্ষক সংকট এবং অনিয়মের কারণে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান আবির বলেন, শিক্ষক সংকট ও তদারকির অভাবের পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। পরীক্ষার আগে নয়জন ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।