নাটোর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, যতই সংকট আসুক, যতই ক্রাইসিস আসুক না কেন, বিএনপিকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। যারা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের আলাইপুর উপরশহর মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত পথসভা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী ও জাতীয় ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল, তাকে হত্যা করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। কিন্তু বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়নি, বরং আরও সংগঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নানা চাপ ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। সে সময় অনেক এমপি-মন্ত্রীকে জাতীয় পার্টিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।
দুলু বলেন, ‘খালেদা জিয়া তখন ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে ছিলেন। ছাত্রসমাজের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। তারেক রহমানকে শৈশব-কৈশোরে এবং আরাফাত রহমানকে শিশু অবস্থায় বাড়িতে রেখে খালেদা জিয়া রাজপথে আন্দোলনে নেমেছিলেন।’
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গ তুলে হুইপ বলেন, ওই সময় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং তারেক রহমানকে মামলা দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তখনও ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল বিএনপি হয়তো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘যতই সংকট আসুক না কেন, যতই ক্রাইসিস আসুক না কেন, বিএনপিকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে, খালেদা জিয়াকে জেলখানায় আটকে রাখার মাধ্যমে এবং তারেক রহমানকে দেশের বাইরে পাঠানোর মাধ্যমে যারা বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তারাই শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এর আগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলাইপুর উপরশহর মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য পথসভা বের করা হয়। পথসভাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপরশহর মাঠে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কোরআন খতম ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
পিএস