পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার সংযোগ থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। ‘ইলিশ পোলাও’ নামের ওই রেস্টুরেন্টে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে টোলপ্লাজার সংযোগ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে লাইন নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুটি সাবস্টেশন ও মোট আটটি ফিডার রয়েছে। এসব ফিডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি এলাকায় অবস্থিত ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্ট। আগে স্থানীয় একটি ফিডারের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তবে প্রায় পাঁচ মাস আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে রেস্টুরেন্টটিতে নতুন করে লাইন নেওয়া হয়। এ সংযোগ দিতে অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, একই বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় রেস্টুরেন্টে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, শর্টসার্কিট বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর প্রভাব টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহেও পড়তে পারে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান আল নাজির বলেন, ‘পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কেপিআই জোন হওয়ায় এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। সেখান থেকে বেশ কিছু খুঁটি বসিয়ে একটি নতুন রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে পদ্মা সেতুতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আমাদের প্রশ্ন, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে কীভাবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ বলেন, ‘আমাদের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ একসময় সেনাবাহিনীর সার্ভিস এরিয়ার ফিডার থেকে দেওয়া হয়েছিল। তখন আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতাম। পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা হওয়ায় আমাদের লাইনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ একটি লাইন থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন শুনলাম পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে ইলিশ পোলাও রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কীভাবে দেওয়া হলো? রেস্টুরেন্টে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেস্টুরেন্টের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, আগে অন্য একটি ফিডার থেকে তার রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোড না থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংযোগ দিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব খরচ তিনিই বহন করেছেন। তার ভাষ্য, নিয়মবহির্ভূত হলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাকে সংযোগ দিত না।

এদিকে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, এ সংযোগের জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর জায়গা ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, খুঁটিগুলো বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, তাদের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এককালীন ভাড়া পরিশোধের শর্তে অনুমতি চেয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, ‘গ্রাহকের অর্থায়নে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় ওই ফিডার থেকে রেস্টুরেন্টটিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, আশপাশে অন্য কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাইলে টেকনিক্যাল বিষয় বিবেচনা করে সংযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা দেওয়া হবে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।

তবে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সাধারণত পরিহার করা হয় বলেও জানান নাজমুল হাসান।

এম