মাইকিং করে ৫২০ টাকায় এক বস্তা আলু বিক্রি 

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

নাটোর: গ্রামের পথে পথে মাইকিং। ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে—৫০ কেজির এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫২০ টাকায়। সাধারণ সময়ে যে আলু সংরক্ষণ করে ভালো দামের আশায় অপেক্ষা করেন ব্যবসায়ীরা, সেই আলুই এখন দ্রুত বিক্রি করে দিতে চাইছেন তারা। কারণ, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাটোরের কয়েকটি কোল্ড স্টোরেজে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মালিক ও আলু ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সংরক্ষিত আলুর মান নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

শেষ মুহূর্তে আলু রক্ষা এবং অন্তত কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় অনেক ব্যবসায়ী কম দামে আলু বিক্রি করছেন। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ৫০ কেজির এক বস্তা আলু ৫২০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

রিজিয়া কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন আলু। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সংরক্ষণ ব্যয় প্রতি কেজিতে প্রায় চার থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা।

বিশ্বাস কোল্ড স্টোরেজেও রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন আলু। লোডশেডিংয়ের সময় সংরক্ষিত পণ্য ঠিক রাখতে প্রতিদিন জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল।

আলু ব্যবসায়ী তারেক মাসুদ বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সংরক্ষণ খরচ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে।

নাটোরের সবচেয়ে বড় কোল্ড স্টোরেজগুলোর একটি এফএনএ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন। তবে গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে আলুর পরিবর্তে বিভিন্ন এগ্রো-ভিত্তিক কোম্পানির মরিচ, টমেটো ও আমের পাল্প সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় জেনারেটর চালাতে প্রতিষ্ঠানটির খরচ হচ্ছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

রিজিয়া কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কোল্ড স্টোরেজে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে সংরক্ষিত আলুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। এতে আলুতে অঙ্কুর বা গাছ গজানো এবং কিছু আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাবিবুল ইসলাম খান, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাটোর বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত আলুতে অঙ্কুর বা গাছ গজিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আলু নষ্টও হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসন ও নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএমের সঙ্গে দেখা করেছেন কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রমাণ দেখিয়ে তারা কোল্ড স্টোরেজগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

তবে গত দুই দিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএম কে এম মেসবাহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে এবং গত দুই দিনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব আলুর একটি অংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

একদিকে বাড়ছে সংরক্ষণ ব্যয়, অন্যদিকে নষ্ট হওয়ার ভয়—দুই দিকের চাপ সামলাতে এখন কম দামে আলু বিক্রি করেই লোকসান কমানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পিএস