স্বপ্ন পূরণের পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট, নভেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদন

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী: বাংলাদেশের একমাত্র প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছে রোসাটম। একই সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। রোসাটমের মিডিয়া উইং রোববার (১১ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

রোসাটম জানায়, রাশিয়ায় সফরকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ।

লিখাচেভ বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎ পাওয়ার এই প্রত্যাশা প্রকল্পটি সম্প্রসারণের আকাঙ্ক্ষাও তৈরি করেছে। আজ এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের।”

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের ধারণা, ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।”

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ভৌত সূচনা কার্যক্রম শুরু করে রোসাটম। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ—প্রকল্পটির সাধারণ ঠিকাদার ও নকশা প্রণয়নকারী সংস্থা—প্রথম ইউনিটে নতুন পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করে। ইউনিটটির গুরুত্বপূর্ণ সূচনা পর্যায়ের প্রথম ধাপ ছিল এটি।

২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকারি চুক্তির ভিত্তিতে রোসাটম বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটিতে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট থাকবে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটে থাকা বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি।

এর আগে লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, আগামী বছর বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে স্টার্টআপ বা চালুকরণ কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা করছে রোসাটম।

এদিকে রোসাটমের অন্যান্য প্রস্তাবের প্রতিও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি। লিখাচেভ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী আমাদের অন্যান্য সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যান্য দেশের জন্য রোসাটমের সমন্বিত প্রস্তাবের মধ্যেও এসব প্রযুক্তি রয়েছে।”

পিএস