সাংবাদিক হত্যা ও চোরাকারবার মামলার আসামি পেলেন সার ডিলারশিপ

  • চুয়াডাঙ্গা প্র‌তি‌নি‌ধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

​চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার উথুলী ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন সাংবাদিক আবু সায়েম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম শিবলু। তাঁর বিরুদ্ধে সোনা ও মাদক চোরাকারবারে জড়িত থাকারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরও কীভাবে তিনি ডিলারশিপ পেলেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

​জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সার ডিলারের চূড়ান্ত তালিকায় উথলী ইউনিয়নের ‘সাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম শিবলুর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকার আমলে দর্শনার আলোচিত স্বর্ণ চোরাকারবারি তোতা-মান্নানের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন এই শিবলু। এছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফেনসিডিলসহ ডিবি পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

​ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালার ব্যত্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যেসব ত্যাগী নেতাকর্মী মাঠে ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে কোন মানদণ্ডে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।

​বিষয়টিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “অভিযুক্ত কেউ ডিলারশিপ পাবেন না—সরকারের এমন ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও একজন চোরাকারবারি ও সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে ডিলারশিপ পান? এতে কালো টাকার প্রভাব রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।”

​এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের তদন্ত কমিটির দেওয়া তালিকা জেলা বিএনপির সুপারিশে অনুমোদন পেয়েছে।

​অন্যদিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সার ডিলারশিপের জন্য আবেদনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে প্যানেল প্রস্তুত করে জেলায় পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলার বিষয়ে তাঁদের জানা ছিল না এবং কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেননি বলে দাবি করেন তাঁরা।

​বিষয়টি সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার জানান, কমিটির সভায় সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বা চোরাকারবারের বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার কথা তাঁর মনে নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি এটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

​উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলা কমিটির সুপারিশ জেলা কমিটির মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

পিএস