নেত্রকোনা: সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নেত্রকোনা সাংবাদিক সমাজ ও দুর্গাপুর প্রেসক্লাব।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এবং একই সময় দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দেন এবং দ্রুত জড়িতদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে, এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিহতের স্ত্রী অনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের ৮ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই গ্রামে নিহত সাংবাদিকের শ্বশুরবাড়ি। ঘটনার রাতে তিনি বাড়ির সামনের একটি দোকানে গিয়েছিলেন। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে।
পরে তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত জানা গেছে, তাকে ৬টি গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এরমধ্যে ৫টি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি পিঠে আটকে ছিল।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে।
পিএস