শাকিলের জানাজায় এমপির বক্তব্যে উত্তেজনা, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

নাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জানাজার আগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বক্তব্য শুরু করলে উপস্থিত লোকজনের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা ঘিরেও উত্তেজনা দেখা দেয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আব্দুল আজিজ উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে কথা শুরু করতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বক্তব্য চালিয়ে যেতে চাইলে একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য দেন। এরপর এমপি আব্দুল আজিজ নিহত শাকিলের পরিবারকে তাঁর পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিলে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় হুইপ দুলু মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানাজা শেষে চাঁচকৈড় বাজারে প্রবাসী রাসেলের রাশ আরবানী শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নাটোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার রাত ১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে দুর্বৃত্তরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

পিএস