পাবনার আতাইকুলায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলার এজাহারনামীয় সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ হলেন আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. মুসা (২৬)।
রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান এসআরবি-১২ পাবনার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার ডলি রানী সরকার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবির একটি দল পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া পূর্ব বনগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুসাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মামলার এজাহারনামীয় ৯ নম্বর সন্দেহভাজন আসামি বলে দাবি এসআরবির।
গ্রেপ্তার মুসার কাছ থেকে হত্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা গেছে কি না—এ বিষয়ে এসআরবি জানায়, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আতাইকুলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ঘটনার ৪৫ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেল চারটা ১০ মিনিটে নিহত শ্রমিক দল নেতা রিপন হোসেনের ভাই রুবেল হোসেন বাদী হয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় আতাইকুলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আতাইকুলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ কুমার সাহা জানান, মামলার এজাহারে ১৫ জনকে সন্দেহভাজন ও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে হাটের বর্তমান ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী ও তাঁর ভাগ্নে রিপন হাটের পাশে তাঁদের কার্যালয়ে বসে নাস্তা করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন লোক মুখ ঢাকা অবস্থায় এসে তাঁদের ওপর গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি।
নিহত দুজন হলেন পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ও হাট ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) এবং তাঁর ভাগ্নে আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৫০)। আব্দুস সালাম ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। আর রিপন একই এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে।
এসএইচ