উদ্বোধনের অপেক্ষায় খুলনা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন 

  • জাকারিয়া হোসাইন শাওন | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০১৮, ০১:৩১ পিএম

খুলনা : খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন এখন দৃশ্যমান। অক্টোবরের ১৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য চালু হতে যাচ্ছে আধুনিক স্টেশন। এমনটিই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে খুলনা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে, শেষ হবার কথা ছিলো ২০১৬ সালের অক্টোবরে। ১৮ মাস মেয়াদী এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দু’দফা সময় বাড়ানো হয় নির্মাণ কাজে। দুই দফা সময় বাড়ানোয় নির্ধারিত সময়ের পর আরও দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে মূল কাজের সঙ্গে পরে নর্দমা, কার ও রিকশা পার্কিং, সীমানা প্রাচীর ও ফায়ার ফাইটিং রুমের কাজ যোগ হওয়ায় খরচও বেড়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি। ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

জোড়াতালি দিয়েই কাজ চললেও শেষমেষ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আধুনিক রেল স্টেশন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। এ উদ্বোধনের মাধ্যমে খুলনার মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। 

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার সোনালীনিউজকে বলেন, আগামী অক্টোবরের ১৫ তারিখে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ ও খুলনা আধুনিক রেল স্টেশন একসাথে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সংসদ সদস্য ও রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

রেলপথ নির্মাণ কাজের সুপারভাইজার মহিদুল ইসলাম বলেন, একাই স্টেশনের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত দৌঁড়াদৌঁড়ি করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। ইঞ্জিনিয়ার তার ইচ্ছা মতো কাজ করেন। আর যে স্লিপার একেবারেই ব্যবহার করা যাচ্ছে না সেগুলো বাদ দেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, গুণগত মান ভালো দেখে স্লিপার ও পাত ব্যবহার করা হচ্ছে। আধুনিক স্টেশনের রেলপথে সার্বক্ষণিক থাকলে অন্য কাজ হয় না। সমস্যা হলেও সেখানে যান তিনি। 

আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী মোসাব্বির হক বিপ্লব বলেন, শেষ অংশের প্লাটফর্মগুলোর রিপিয়ার ও প্লাস্টারের কাজ চলছে। সামাণ্য কিছু কাজ বাকী আছে। উদ্বোধনের আগে শেষ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আধুনিক রেল স্টেশনের সাথে মসজিদ নির্মাণের কথা থাকলেও তা এখনও নির্মাণের কোন প্রস্তুতি দেখা যায়নি। স্টেশনের ছাদে প্রথমে ফাঁটল দেখা দিলেও তা না ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরতরা।

খুলনা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনে তিনটি প্লাটফর্মে ছয়টি লাইন দিয়ে  ছয়টি ট্রেন থেকে যাত্রীরা ওঠা-নামা করতে পারবে। এছাড়া থাকবে ছয়টি টিকিট কাউন্টার, ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা, প্রথম শ্রেণি ও শোভন যাত্রীদের আলাদা ওয়েটিং রুম, ভিআইপিদের জন্য দুটি ওয়েটিং রুম, নারী-পুরুষের আলাদা বাথরুম, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংক, নামাজ ঘর, আবাসিক হোটেল, পিএবিএক্স টেলিফোন ব্যবস্থা, প্রতিটি প্লাটফর্মে  যাত্রীদের বসার ব্যবস্থাও থাকবে। সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য রেল স্টেশনটিতে চালু থাকবে সিসি ক্যামেরার সুবিধা।

উল্লেখ্য, গত ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘রিমডেলিং অব খুলনা স্টেশন এন্ড ইয়ার্ড’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। একাধিকবার সংশোধনের পর ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন করা হয়। ২০১৫ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিও অনুমোদন দেয়। ওই বছরের এপ্রিল মাস থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে খুলনায় আধুনিক রেল স্টেশনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবরে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ১৮ মাস মেয়াদী এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। কাজে ধীর গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৬০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সোনালীনিউজ/আরজে