খালাত বোনের সঙ্গে ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম পরিণতি, এক রাতেই শেষ একটি পরিবার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানার উত্তর বনমালা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। একটি পরিবারের ভেতরের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও জটিল সম্পর্কের জেরে এক রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও তার কনিষ্ঠ ছেলে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত পারিবারিক এক ত্রিভুজ প্রেমকে ঘিরে। পরিবারের বড় ছেলে সোহান (২৮)-এর সঙ্গে তার খালাত বোনের বিয়ের আলোচনা চলছিল। তবে গোপনে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে ছোট ভাই সাকিব (১৮)-এর। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর আকার নেয়।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার শুরু গভীর রাতে। বাড়ির সবাই যখন ঘুমে অচেতন, তখন বড় ছেলে সোহান (২৮) তার ছোট ভাই সাকিব (১৮)-এর ওপর হামলা চালায়। সে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাইয়ের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়, যাতে সে পালাতে না পারে। এরপর একাধিক আঘাতে নিশ্চিত করে তার মৃত্যু। এই পুরো ঘটনাটি ঘটে নিঃশব্দে—কেউ কিছু টের পায়নি। ঘরের ভেতরেই নিভে যায় একটি তরুণ প্রাণ।

পরে তাদের বাবা সোহেল রানা (৫০) বিষয়টি দেখে ফেললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় তাকেও সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে দুই ব্যক্তি একজনকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিই ছিলেন সোহেল রানা। পরে রেললাইনে তার মৃত্যু হয়, যা তদন্তকারীদের মতে সন্দেহজনক এবং পরিকল্পিত ঘটনার অংশ হতে পারে।

প্রথমদিকে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ সামনে আসার পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে থাকে। তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্ত সোহান ঘটনাটি আড়াল করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রেমঘটিত বিরোধ থেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং মামলার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মানসিক চাপ কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই এক নির্মম উদাহরণ।

এম