সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে পরিবারের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তাদের পরিবার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি।

[275590]

থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের পর হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। পিবিআইয়ের নেতৃত্বাধীন এ টাস্কফোর্স গঠনের প্রায় দুই বছর হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগটি কমপ্লেইন্ট রেজিস্টারভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৮ ধারা অনুযায়ী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর জোহা জানান, দুদকের একটি মামলায় জব্দ করা র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘তিন থেকে চারজন’ সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে জিয়াউল আহসানকে পরদিন একটি ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ ঘটবে বলে জানানো হয়েছিল। ওই তথ্যের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তানভীর জোহা আরও বলেন, তৎকালীন সরকার বা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত কোনো স্পর্শকাতর নথি, ডিস্ক, টেপ বা মেমোরির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সামরিক বা র‍্যাব কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়লে তা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিন পর তদন্তে নতুন তথ্য আসায় আশাবাদ প্রকাশ করেছেন সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রুনির ভাই নওশের আলম রোমানও প্রকৃত আসামিদের সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এসআই