বাংলামোটরে চাঁদা না পেয়ে গুলি: বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৪জন রিমান্ডে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া অন্য তিন আসামি হলেন ওমর, মোর্শেদ ও মো. শাওন। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সাইমনকে চার দিন এবং বাকি তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটর এলাকার নিউ ইস্কাটনে একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। সেখানে সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

সোহান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং প্রাণে মারার হুমকি দেন। একপর্যায়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করা হয় এবং অন্য আসামিরাও তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সময় তার ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন সেখানে এলে সাইমনসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে করে পুনরায় সেখানে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। মোক্তার হোসেন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

এ সময় পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করেন। পরে খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. নাসিম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসএইচ