যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে মন্ত্রণালয়-এনবিআর কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, চক্রের সদস্য হাসিনুর রহমান সুজন এবং চাকরিপ্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের ১১৬টি ও ৫০ টাকা মূল্যমানের চারটি স্ট্যাম্প, এক সেট প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, আটটি মোবাইল ফোন, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তর প্রস্তুত এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চক্রের সদস্যদের পৃথক ভূমিকা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে সম্ভাব্য গ্রাহক, সরবরাহকারী ও মধ্যবর্তী বিতরণকারীদের একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এসআরবি-৩ জানায়, গত বুধবার মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং মফিজুল চাকরিপ্রার্থী। মফিজুল এ চক্রের এক সদস্যকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন। পরে আরও অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার তিনজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজন এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম। তাকে ঢাকার উত্তরখান থেকে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলামকে মিরপুর-১০ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সাভার থেকে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদকে এবং শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুর থেকে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নূর মোহাম্মদ জানিয়েছিলেন, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নটি পেয়েছেন। পরে প্রশ্নটি জাহাঙ্গীরকে দেন। তবে তার দেওয়া তথ্য সঠিক বলে মনে হয়নি। আমাদের তদন্ত চলছে। সরকারি একাধিক কর্মচারীর নাম এসেছে। কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মূলত যে জায়গা থেকে প্রশ্নটি ফাঁস হয়েছে, সেটি বের করার চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক ধাপ রয়েছে। নূর মোহাম্মদ অন্য একজনের মাধ্যমে প্রশ্নটি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

পিএস