তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেফতার, যে তথ্য দিলো বন্ধু দীপ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে ‘দিশা’ নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা মেলায় গ্রেপ্তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।

টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানান, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিবাগত মধ্যরাত থেকে রিমান্ডে থাকা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এর আগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ দোহা সুমন জানান, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিন মঞ্জুর করেন।

নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধু দীপের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত সাউরির সঙ্গেই ছিলেন দীপ। সিসিটিভি ও গোপন সূত্রে জানা যায়, দীপ সাউরিকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। কিন্তু সেখান থেকে সাউরি আর ফেরেননি; দীপ একাই ফিরে আসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও দীপের জবাবে চরম অসংগতি দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই। শুক্রবার রাতে সাউরির বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২৮ বছর বয়সী সাউরি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সাউরির বাবা এনায়েতুল করিম জানান, দীপ প্রায়ই তাঁদের বাসায় আসতেন। ঘটনার পর দীপের দেওয়া বক্তব্যে বড় অসংগতি রয়েছে। পিবিআইয়ের কাছে দীপ স্বীকার করেছে তারা টঙ্গী গিয়েছিল। কিন্তু সে পরিবারকে বলেছিল সাউরিকে বাসার চত্বরে নামিয়ে দিয়ে গেছে। এতেই সন্দেহ গভীর হয়। সাউরির বাবা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

এসএইচ