ঢাকা: একযুগ আগে ২০০৯ সালের আজকের দিনে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ছিল ২৬ হাজার ৩৫১ টাকা। একযুগ পরে আজ সেই একই মানের স্বর্ণ কিনতে খরচ হচ্ছে ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। অর্থাৎ গত ১২ বছরে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১৮৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার কারণে ২০০৯ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে স্বর্ণের দাম। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এসে দাড়ায় প্রতি ভরিতে ৫৯ হাজার ৮৭৪ টাকা। এরপর থেকে আবারও কমতে থাকে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এসে গুনতে হয় ৪১ হাজার ২৭৬ টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এসে মূল্য দাড়ায় ৬০ হাজার ৩৪০ টাকায়। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে র্স্বণের দাম।
২০২০ সালের ৬ আগস্ট দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম ওঠে। এদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা। তবে গত বছরের ১৩ নভেম্বরও সোনার দাম নামে ৭৫ হাজার ৩০০ টাকায়। ১৪ ডিসেম্বরও এই মূল্য ছিল।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, ২০০৯ থেকে বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ডলারের দাম বেড়ে গেছে অনেক। আর কমতে থাকে স্বর্ণের মাইন। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী দাম বেড়ে গেছে। আগে মানুষ ডলারকে রিজার্ভ হিসেবে রাখত। কিন্তু এখন স্বর্ণকে রিজার্ভ হিসেবে রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে। এজন্য স্বর্ণের দাম বাড়ছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, আর্ন্তজাতিক বাজারে সোনার দাম ওঠা-নামা ছাড়াও ডলারের দাম কম-বেশির কারণে সোনার দাম বাড়ে বা কমে। এছাড়া চাহিদা বিপরীতে যোগান কম-বেশি থাকলে, উৎসব আমেজের আগে-পরে দাম বাড়ানো-কমানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি দাম কমে বা বাড়ে তাহলে দেশে ব্যবসায়ীরা তা কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করেন। পরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বৈঠকের মাধ্যমে দাম নতুন করে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া ডলারের দামের সঙ্গেও সোনার দাম ওঠা-নামা করে। বিশ্ব বাজারে ডলারের দাম অনেক সময় বাড়তি থাকলে সোনার দাম নিম্নমুখী হয়। আবার এমনও দেখা যায়, ডলার নিম্নমুখী হলে সোনার দাম হয় ঊর্ধ্বমুখী।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভরিতে ১ হাজার ৮৬৭ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা কিনতে খরচ হবে ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। সে হিসেবে দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে বাড়ানো হলো সোনার দাম। নতুন দর অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি ৬১ হাজার ৮১৯ টাকায় ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ৫১ হাজার ২০৫ টাকায় বিক্রি হবে।
২০২১ সালের শুরু থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনার দাম ১১ বার বাড়ানো-কমানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বার কমানো এবং ছয় বার বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪ বার দেশের বাজারে সোনার দাম পরিবর্তন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রতি ভরির দাম বেড়েছে ১২ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার টাকার বেশি দাম বেড়েছে।
সোনালীনিউজ/আইএ