প্রবাসীদের রেমিট্যান্স একই কর্মদিবসে দেওয়ার নির্দেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) একই দিন বা পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যেই গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় দেরি কমানো, কার্যকারিতা বাড়ানো এবং গ্রাহকসেবা উন্নত করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তা অবহিত করবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স একই কর্মদিবসে এবং ব্যাংকিং সময়ের পর প্রাপ্ত রেমিট্যান্স পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে।

রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) অথবা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে থাকলে কিছু নথিপত্র বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট রিভিউ সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে অর্থ জমা দেওয়ার আগে যাচাই সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি আরও গতিশীল করতে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের বিবরণীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করে সর্বোচ্চ ৬০ মিনিটের মধ্যে তা সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সার্কুলারে পেমেন্ট ট্র্যাকিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে শুরু করে গ্রাহকের হিসাবে চূড়ান্ত জমা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউটিআর) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম আরও শক্তিশালী করে ফরম ‘সি’ ও ফরম ‘সি (আইসিটি)’ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা ধাপে ধাপে বাতিল করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়িক মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান ও বৈশ্বিক সেরা চর্চার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে রূপান্তরকালীন সময়ে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজন হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন ব্যাংকাররা।

এএইচ/পিএস