যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক এবং চলমান বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত অবস্থানে যায়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিষয়টি এখনো “ইভলভিং” বা পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে, তাই সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে ঘোষণার কথা শোনা গেলেও সরকারিভাবে কোনো লিখিত নথি পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পূর্বনির্ধারিত কিছু ট্যারিফ বহাল রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে।
তার ভাষায়, “মার্কিন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত কংগ্রেসে অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখনো বিকাশমান। লিখিত নথি না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা কঠিন।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগের সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটিও বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি চুক্তির যেমন সুফল থাকে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকতে পারে। আমরা পক্ষে-বিপক্ষে সব দিক বিশ্লেষণ করছি।”
চুক্তিটি তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আলোচনার সময় কিছু নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) ছিল। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য প্রভাব ও করণীয় নিয়ে মতামত দেন। মন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য শুল্ক পরিবর্তনের প্রভাবে কোন সেক্টরে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
রোজা সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “রমজানের শুরুতে একসঙ্গে বাজার করার প্রবণতা থাকে। এ সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। যেমন—৪০ থেকে ৫০ টাকার লেবু সাময়িকভাবে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পরে আবার দাম স্বাভাবিক হয়েছে।”
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে বর্তমান সরকার বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকারি পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাওয়ার পরই পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এম