মার্চ পর্যন্ত ফার্নেস অয়েল মজুত, দেশে তেলের দাম  নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:৫৩ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আগামী তিন মাসের জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

বিদ্যুৎ খাতে ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুশ্চিন্তা

সরকারি হিসাবে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বর্তমানে মার্চ মাস পর্যন্ত পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। দেশে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু আছে। মার্চে এসব কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টনের বেশি ফার্নেস অয়েল রয়েছে, যা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

তবে নতুন করে আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে এপ্রিলেই লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ< পাওয়ার ডেভেলমমেন্ট বোর্ড।

এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা

এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে কুয়েত থেকে। প্রতি মাসে ২-৩টি কার্গো আসে ওই দেশ থেকে। মার্চের মাঝামাঝি দুটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখনো নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহে ব্যত্যয় ঘটলে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হতে পারে, যা ব্যয় বাড়াবে।

তেল আমদানিতে বিকল্প পথের চেষ্টা

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, এপ্রিল পর্যন্ত ১৫-১৬টি জাহাজে পরিশোধিত তেল আসার কথা রয়েছে, যার বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালির বাইরে বিভিন্ন বন্দর থেকে রওনা দেবে। তবে সৌদি আরব থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের দুটি চালান হরমুজ হয়ে আসার কথা থাকায় বিকল্প রুট নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশে বছরে ৭০ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ টন অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নজরদারি জোরদার

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে রোববার জ্বালানি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর নির্দেশনায় মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে একাধিক বৈঠক করছে জ্বালানি বিভাগ।

তেলের দাম এখনই বাড়ছে না

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৫ ডলারে উঠলেও সরকার জানিয়েছে, মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। তবে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এপ্রিল থেকে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। তাই এখনই বিকল্প সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

এম