অবৈধভাবে নোট বেচাকেনার অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগের বিরুদ্ধে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগে নতুন নোট সরবরাহকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিলে নতুন নোট সরবরাহের নিয়ম ভেঙে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নোট বেচাকেনার একটি চক্র পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাশ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আবদুস সবুর, শেখ নূর মোহাম্মদ মাসুম, যুগ্ম পরিচালক মোস্তফা রেজাউল আলম এবং যুগ্ম পরিচালক প্রতুল রায়ের সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নতুন নোট সরবরাহ করা হয় কারেন্সি অফিসারের স্লিপের মাধ্যমে। তবে গত ৯ মার্চ এই নিয়ম ভেঙে কারেন্সি অফিসারের স্লিপ ছাড়াই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংকসহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকে নতুন নোট সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। গত সপ্তাহে ভল্ট ও বক্স শাখার দুইজন যুগ্ম পরিচালক সিন্ডিকেটের চাহিদামতো নোট সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে গতকাল নোট বিতরণের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পরিচালক সাহানুর রহমান এবং সিন্ডিকেট সদস্য শেখ নূর মোহাম্মদ মাসুমের মধ্যে নোট সরবরাহ নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে গেলে পরিচালক (ক্যাশ)-এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নোট সরবরাহের পেমেন্ট মূলত যুগ্ম পরিচালক প্রতুল রায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। তাকে ম্যানেজ করেই সিন্ডিকেট সদস্যরা অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আহমদ হোসেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা তার নিজ এলাকার হওয়ায় বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কার্যকলাপের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ২০ টাকার নোটের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অনেক ব্যাংকের কর্মকর্তারাও এক প্যাকেটের বেশি ২০ টাকার নোট পাচ্ছেন না।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটকে সুরক্ষা দিতে তুলনামূলক জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও মোস্তফা রেজাউল আলমকে ক্যাশ প্রশাসনে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যাংকগুলোর ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করেন। যে ব্যাংক বেশি কমিশন দেয়, তাদেরকে বেশি সংখ্যকবার নোট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই, তবে জেনে জানাতে পারব।

সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টি অনেক কর্মকর্তা জানলেও অজানা আতঙ্কে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পরপরই সংশ্লিষ্ট চক্রটি নিজেদের অবস্থান দ্রুত বদলে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিন্ডিকেটের লাগামহীন দুর্নীতি ও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্যাশ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

এএইচ/পিএস