মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্তত ৮৫টি দেশে পেট্রোলের খুচরা মূল্য বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই তালিকার বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক খুচরা জ্বালানি মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের জ্বালানির খুচরা মূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভিয়েতনামে। দেশটিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতি লিটার ৯৫-অকটেন পেট্রলের দাম ছিল ০ দশমিক ৭৫ ডলার। ৯ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৩ ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরপর রয়েছে লাওস, যেখানে পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। কম্বোডিয়ায় বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৭ শতাংশ দাম বেড়েছে।
এ ছাড়া জার্মানি, সিশেলস, গুয়াতেমালা, লেবানন, নাইজেরিয়া, কানাডা, অস্ট্রিয়া, চীন, লুক্সেমবার্গ এবং জিম্বাবুয়েসহ আরও কয়েকটি দেশে পেট্রোলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারিতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত পেট্রোলের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৪ ডলার। সংঘাত শুরু হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫৮ ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন চার ডলার ছাড়িয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় তা পাঁচ ডলারেরও বেশি, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের খুচরা জ্বালানি দামে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে আফগানিস্তানে, প্রায় ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে পাকিস্তান, যেখানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসেনি।
এ ছাড়া মিয়ানমারে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এমনকি বিশ্বের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। কাতারে পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এম