নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নিচ্ছে ডিএসই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: শেয়ারহোল্ডারদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা বিকল্প প্রযুক্তির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গতকাল রোববার ডিএসইর পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও অধিকাংশ পরিচালক তুলনামূলক সাশ্রয়ী ম্যাচিং ইঞ্জিন—পাকিস্তানের ইনফোটেক কোম্পানির তৈরি প্রযুক্তি—নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। ওই প্রযুক্তি নিলে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা কম খরচ হতো। 

পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ফিনটেক কোম্পানি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতো, যার মাধ্যমে পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সমাধান স্থানীয়ভাবেই দেওয়া সম্ভব হতো। তবে নাসডাকের প্রযুক্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শিগগিরই একটি ফিনটেক কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।

ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, পুঁজিবাজারে প্রযুক্তিগত পরনির্ভরতা কমাতে আলাদা একটি ফিনটেক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। এটি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হতে পারে।  ডিএসইর অবকাঠামোগত সুবিধা ও দক্ষ জনবল রয়েছে। তাই এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা খুব কঠিন হবে না। ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রকল্প ওই কোম্পানির মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা যাবে।

মিনহাজ মান্নান বলেন, ইনফোটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোম্পানি গঠন করা গেলে ভবিষ্যতে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস), নিজস্ব সিডিবিএলসহ স্টক এক্সচেঞ্জ–সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমাধানের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো না।

বর্তমানে ডিএসই নাসডাকের পুরোনো সংস্করণের ম্যাচিং ইঞ্জিন দিয়ে লেনদেন পরিচালনা করছে। এর বর্ধিত মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে। নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন স্থাপন ও পুরো সিস্টেম মাইগ্রেশন করতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। গত কয়েক মাস ধরে এই প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক ও পাকিস্তানের ইনফোটেক—এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল ডিএসইর পর্ষদ।

গতকাল রোববার ডিএসই যে নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি সর্বশেষ সংস্করণ। বিশ্বের ৪৫টির বেশি উন্নত স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই ইঞ্জিন মাইক্রোসেকেন্ডে লাখ লাখ অর্ডার প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম এবং সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। এই সংস্করণটি নিতে ডিএসইকে প্রায় ২৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে এবং এর মেয়াদ হবে ১০ বছর।

অন্যদিকে ইনফোটেকের তৈরি ম্যাচিং ইঞ্জিন আফ্রিকার ১২টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি প্রায় ১৬০ কোটি টাকায় নেওয়া সম্ভব ছিল। তবে বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক কোনো বড় স্টক এক্সচেঞ্জে ইনফোটেকের প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য সফলতার নজির নেই।

মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, তিনজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, চেয়ারম্যান, এমডিসহ বেশিরভাগ পরিচালক ইনফোটেকের প্রযুক্তি নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা নাসডাকের প্রযুক্তি নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাই তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই শেষ পর্যন্ত নাসডাকের ম্যাচিং ইঞ্জিন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্বে খুব অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান উচ্চমানের ম্যাচিং ইঞ্জিন তৈরি করে এবং এসব প্রযুক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল। এ খাতে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লন্ডনের মিলেনিয়াম আইটি (এলএসইজি) ও চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ (এসজেডএসই) জানিয়েছে, তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে ডিএসইকে ম্যাচিং ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারবে না। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ ছিল মূলত নাসডাকের কাছেই।

উল্লেখ্য, ডিএসইতে চীনা কনসোর্টিয়ামের মালিকানা রয়েছে। ২০১৮ সালে তারা ডিএসইকে ৩৩ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার মধ্যে উন্নতমানের ট্রেডিং সিস্টেম দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল। তবে যোগাযোগ করা হলে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জানায়, তারা ২৭ মাসের আগে নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারবে না। অন্যদিকে নাসডাক এই প্রযুক্তি সরবরাহে প্রায় ৯ মাস সময় চেয়েছে।

এএইচ/পিএস