যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:২১ এএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দামে বড় উত্থান দেখা গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলতেই বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) লেনদেনে স্বর্ণের দাম প্রায় তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি-নির্ভর মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।

সর্বশেষ তথ্যে, স্পট গোল্ডের দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮১২.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এই দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৮৪১.৬০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের কাছ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছে, যা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি চালু না করে, তাহলে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান দাম বৃদ্ধির পেছনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি কাজ করলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তারা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে, তবে নির্দিষ্ট কিছু স্তর বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে পাকিস্তান কূটনৈতিক আলোচনার সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানোর পর ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তারা এটাও স্পষ্ট করেছে যে এই আলোচনা যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নির্দেশ করে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নির্ধারণকে জটিল করে তোলে। সাধারণত স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, যদিও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে অন্যান্য ধাতুর মধ্যেও দাম বেড়েছে—রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামেও উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।

এম