দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি এখন প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ফলে দেশের রিজার্ভ একসময় নেমে আসে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়েছে, তবে আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও ভেতরে ভেতরে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি কমেছে, আর মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪.২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—২০০৫-০৬ সালে যেখানে এটি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৩.৫১ শতাংশে। কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধি কমে গেছে ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে।
কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাত দুর্বল হয়ে পড়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে গেছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কৃষিখাতে ঝুঁকছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম। বর্তমানে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ কৃষিতে হলেও জাতীয় আয়ে এ খাতের অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বৈষম্য শ্রমবাজারের গভীর কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দেয় এবং “কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি”র ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে তরুণদের উৎপাদনশীলতা কমছে এবং তাদের আয়ের সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে পড়ছে।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি টেকসই ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
এম