প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটটি দেশের ইতিহাসের ৫৫তম বাজেট।
তবে বাজেট এলেই সাধারণ মানুষের মনে একটি চিরাচরিত প্রশ্ন উঁকি দেয়—স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব বাজেটই কেন সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস অর্থাৎ ‘বৃহস্পতিবার’ পেশ করা হয়? (ব্যতিক্রম শুধু ছিল গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর, যখন সোমবার বাজেট দেওয়া হয়েছিল)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদের বিশ্লেষণ থেকে এর পেছনে থাকা মূলত চারটি প্রধান কারণ জানা গেছে-
১. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশ্রাম ও পর্যালোচনা
বাজেট তৈরির পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসের পর মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ করা হলে পরবর্তী দুই দিন (শুক্রবার ও শনিবার) সরকারি ছুটি থাকায় তারা প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পান। একই সাথে থিতু হয়ে বাজেটটি নিখুঁতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
২. বাজার নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক ফাঁকি রোধ
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট ঘোষণার পর পরই ব্যাংক ও সরকারি অফিস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য মজুত করা, শুল্ক ফাঁকি দেওয়া বা আইনি কোনো ফাঁকফোকর খোঁজার সুযোগ পায় না। দুই দিনের ছুটিতে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
৩. আইনি পদক্ষেপের সুযোগ না থাকা
ছুটির দিন থাকায় নতুন বাজেটের কোনো ধারার বিরুদ্ধে কেউ হুট করে আদালতে গিয়ে আইনি স্থগিতাদেশ বা কোনো রিট করার সুযোগ পায় না। এতে সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রাথমিক ধাক্কা থেকে রক্ষা পায়।
৪. সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতির সময়
বাজেট উপস্থাপনের পরবর্তী সপ্তাহে এটি পাস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার বাজেট দিলে সংসদ সদস্যরা শুক্রবার ও শনিবার—এই দুই দিন বাজেট বক্তৃতার কপি ও এর বিভিন্ন দিক ভালোভাবে পড়াশোনা করার বাড়তি সময় পান। ফলে তারা সংসদে কার্যকর আলোচনা করতে পারেন।
এক নজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট
এটি হবে দেশের ৫৫তম, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ। এদিকে, বাজেটে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
এম