এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালকে ৬ মাসের আলটিমেটাম

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে নিট সম্পদের ঘাটতির কারণে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ছয় মাসের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের নিট সম্পদ পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সিকিউরিটিজ বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে দাপ্তরিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন।

এদিকে, এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনাধীন ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) সতর্ক করেছে কমিশন। এর মধ্যে বিজিআইসিকে ‘এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড’-এর ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইসিবিকে ‘এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড’-এর ট্রাস্টি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনায় বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হলে তা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ প্রেক্ষাপটে কঠোর শর্ত আরোপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং ট্রাস্টিদের জবাবদিহি বাড়াতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল নাদিম রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণ কঠিন হলেও প্রতিষ্ঠানটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্টিদের ওপর নিয়ন্ত্রকের এ কঠোরতা মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে।

এএইচ/পিএস