ঢাকা: জটিল কাগজপত্র আর দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে এখন ঘরে বসেই ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মোবাইল ফোনের কয়েকটি ক্লিকেই ঋণের আবেদন, যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া যাবে ৫০ হাজার টাকার ব্যাংক ঋণ। আর এই ঋণকে বলা হচ্ছে ‘ই-লোন’ বা ডিজিটাল ঋণ।
বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এবং ক্যাশলেস সমাজ বিনির্মাণে গত ১১ মে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ নীতিমালা বা সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার আওতায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সেবার নাম হবে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ই-লোন’। এই ঋণের প্রধান শর্ত হলো, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে, এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। অর্থাৎ, ১২ মাসের মাঝে পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া, এ ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক সুদহার কার্যকর হবে। তবে কোনো ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় এই ঋণ দিলে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ।
ই-লোনের আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন ও বিতরণ—সব প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ফলে গ্রাহককে কোনো দলিলে সশরীরে স্বাক্ষর করতে হবে না। এর পরিবর্তে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করে গ্রাহকের সম্মতি নেওয়া হবে। ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংক গ্রাহকের পূর্বের ক্রেডিট রেকর্ড বা সিআইবি রিপোর্ট যাচাই করবে, তবে এই সিআইবি অনুসন্ধানের জন্য গ্রাহকের ওপর কোনো চার্জ প্রযোজ্য হবে না। কোনো ঋণখেলাপি এই সুবিধা পাবেন না।
পিএস