ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ পুর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
রোববার (১৪ জুন) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
এসময় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকে অবৈধভাবে চেয়ারম্যান নিয়োগের অধিকার সরকারকে কেউ দেয়নি। গ্রাহকদের স্বার্থবিরোধী চেয়ারম্যান নিয়োগ গ্রাহকদের হতাশ করেছে সরকার।
তারা বলেন, এস আলমের দোসরদের এই ব্যাংকে সুযোগ দিয়ে আবার আমাদের আমানত ধ্বংসের পায়তারা সফল হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস আলমের পক্ষে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট তিনি এস আলমের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের জন্য কাজ করছেন।
এরআগে গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র নুর উন-নবী । ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অপসারণ, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিবাদ জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সচেতন গ্রাহকদের দাবির সঙ্গে একমত জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের গ্রাহকদের আতঙ্কে টাকা তুলে নিতে দেখা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি সাতটি দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে আছে-
১. ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ।
২. ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।
৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা ও অপপ্রচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং দায় পরিশোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৬. ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের আবার প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি।
এসএইচ